Tata Motors 3 New EV Launch: Tata Motors ২০২৬ সালের দীপাবলির আগেই ভারতে তিনটি নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি লঞ্চ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই লাইনআপে থাকবে দুটি নতুন SUV এবং একটি আপডেটেড Tata Tiago EV Facelift। ধীরে ধীরে কোম্পানি তাদের EV পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী করছে, যাতে ভারতীয় বাজারে ইলেকট্রিক সেগমেন্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করা যায়।
এই নতুন গাড়িগুলোতে আধুনিক টেকনোলজি, উন্নত ব্যাটারি রেঞ্জ এবং আরও প্রিমিয়াম ডিজাইন দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে Tata Sierra EV নিয়ে। পাশাপাশি দীর্ঘ অপেক্ষার পর Tata Safari EV-ও ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, Tata Tiago EV Facelift এবং পুরনো Tiago EV ইতিমধ্যেই ভারতের রাস্তায় টেস্টিং অবস্থায় ধরা পড়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে লঞ্চ খুব দূরে নয়।
Tata Motors 3 New EV Launch: Tata Sierra EV
২০২৬ সালে Tata Motors-এর সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল লঞ্চ হতে চলেছে Tata Sierra EV। এই SUV তৈরি হচ্ছে নতুন acti.ev প্ল্যাটফর্মে, যেটা ইতিমধ্যেই Tata Curvv EV-তে দেখা গেছে। মিড-সাইজ এই ইলেকট্রিক SUV-তে থাকতে পারে একদম আলাদা “লাউঞ্জ-স্টাইল” ইন্টেরিয়র, যা ১৯৯১ সালের আইকনিক Sierra-র ডিজাইনকে আধুনিকভাবে ফিরিয়ে আনে। রেট্রো আর ফিউচারিস্টিক ডিজাইনের মিশ্রণ এটিকে বেশ ইউনিক করে তুলবে।
Competition:
Tata Sierra EV প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে Mahindra BE 6, Hyundai Creta Electric, MG ZS EV এবং VinFast VF6-এর মতো জনপ্রিয় গাড়ির সঙ্গে।
Power:
এই SUV-তে দুটি ব্যাটারি অপশন পাওয়া যেতে পারে—৫৫kWh এবং ৬৫kWh। একবার চার্জে প্রায় ৪৫০-৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাওয়া যেতে পারে, যা দৈনন্দিন ব্যবহার এবং লং ড্রাইভ—দুটির জন্যই উপযোগী। এটি মূলত ফ্রন্ট-হুইল ড্রাইভ হবে, তবে ৬৫kWh ব্যাটারির উচ্চতর মডেলে ডুয়াল-মোটর AWD (All-Wheel Drive) সেটআপ থাকতে পারে। উচ্চ গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, বিভিন্ন টেরেইন মোড এবং AWD মিলিয়ে হালকা অফ-রোডিংয়ের সুবিধাও দেবে, ফলে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
Features:
টপ ভ্যারিয়েন্টে থাকতে পারে বিশেষ ৪-সিটার “লাউঞ্জ” কনফিগারেশন, যেখানে পিছনের সিটে অনেক বেশি লেগরুম এবং প্যানোরামিক সানরুফ থাকবে। এছাড়াও থাকতে পারে ট্রিপল-স্ক্রিন ড্যাশবোর্ড, পাওয়ারড ফ্রন্ট সিট, ভেন্টিলেটেড সিট, অটো-ডিমিং IRVM, চার চাকার ডিস্ক ব্রেক, ইলেকট্রনিক পার্কিং ব্রেক (অটো হোল্ডসহ) এবং LEVEL-2 ADAS ফিচার। উন্নত কানেক্টেড কার টেকনোলজি এবং ভয়েস কন্ট্রোল ফিচারও এতে যোগ হতে পারে।
Tata Motors 3 New EV Launch: Tata Safari EV
টাটা মোটরস Tata Safari EV-কে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ SUV হিসেবে নিয়ে আসবে। এটি Tata Harrier EV-এর মতো একই acti.ev+ প্ল্যাটফর্মের ওপর তৈরি হবে। শুধু প্ল্যাটফর্মই নয়, Tata Safari EV-তে Tata Harrier EV-এর মতোই ব্যাটারি প্যাক এবং ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এটি ৬ এবং ৭-সিটার—দুটি ভার্সনেই আসতে পারে, যেখানে মাঝের সিটের কনফিগারেশন আরও বেশি আরামদায়ক এবং ব্যবহারযোগ্য হবে, বিশেষ করে পারিবারিক ব্যবহারের জন্য।
Competition:
নতুন Tata Safari EV প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে Mahindra XEV 9S, Kia Carens Clavis EV, BYD eMax 7 এবং VinFast VF MPV 7-এর সঙ্গে।
Performance and Range:
এতে ৬৫kWh এবং ৭৫kWh ব্যাটারি অপশন থাকতে পারে, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে রিয়ার-অ্যাক্সেল মোটর থাকবে। ৭৫kWh ভার্সনে ডুয়াল-মোটর AWD সেটআপ পাওয়া যেতে পারে। এই গাড়িটি ০-১০০ কিমি/ঘণ্টা স্পিড তুলতে প্রায় ৮ সেকেন্ড সময় নিতে পারে, যা এই সেগমেন্টের জন্য বেশ ভালো পারফরম্যান্স। পাশাপাশি, বিভিন্ন টেরেইন মোড থাকায় হালকা অফ-রোডিংয়ের সুবিধা দেবে। একবার চার্জে বাস্তবে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জ পাওয়া যেতে পারে, যা লং ট্রিপের জন্য যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য।
Tata Motors 3 New EV Launch: Tata Tiago EV Facelift
Tata Tiago EV বর্তমানে ভারতের বাজারে টাটা মোটরসের সবচেয়ে সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ি। দীপাবলির আগেই এটিতে বড়সড় আপগ্রেড আনা হবে, যাতে VinFast VF3 এবং হুন্ডাইয়ের বাজেট গাড়িগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে। এটি মূলত শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে পরিচিত।
এই হ্যাচব্যাকে নতুন ডিজাইনের ফ্রন্ট, নতুন অ্যালয় হুইল এবং আপডেটেড টেইল-লাইট ডিজাইন দেখা যাবে, যা গাড়িটিকে আরও আধুনিক লুক দেবে। গাড়ির ভিতরে থাকতে পারে বড় টাচস্ক্রিন, উন্নত ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং নতুন ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করবে।
নতুন Tata Tiago EV Facelift-এ ৩০kWh LFP ব্যাটারি দেওয়া হতে পারে, যা বর্তমান ২৫kWh ব্যাটারির জায়গা নেবে। এই নতুন মডেলে একবার চার্জে প্রায় ৩২৫-৩৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ পাওয়া যেতে পারে, যেখানে পুরনো মডেলে ছিল ২৯৩ কিলোমিটার। তবে এন্ট্রি-লেভেল ভ্যারিয়েন্টে আগের ১৯.২kWh ব্যাটারিটিই থাকতে পারে, যাতে দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী রাখা যায়।
Also read : Tata Safari EV-র 5 টি ফিচার যা Mahindra-কে চ্যালেঞ্জ করবে

